Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!.

নিবন্ধন প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা: নিজ নিজ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব | ejobscircular24

Government - Non Government job circular and news of Bangladesh

নিবন্ধন প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা: নিজ নিজ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষার চতুর্থ দিনে প্রার্থীদের নিজ নিজ বিষয়ের গুরুত্ব দিয়ে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নিউ ইস্কাটন গার্ডেন রোডে অবস্থিত বোরাক টাওয়ারে চতুর্থ দিনের মত বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রার্থীরা নিয়োগ প্রাপ্তির আশায় এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিদিনের মত ৮টি বোর্ডের অধীনে মোট ৪০০ জন প্রার্থী আজ অংশগ্রহণ করে এ পরীক্ষায়। তাদের সবাই অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিবন্ধন প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থীদের নিজ নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র শিক্ষাবিষয়ক জাতীয় পত্রিকা দৈনিকশিক্ষাডটকমের ধারাবাহিক সাক্ষাৎকারের চতুর্থ দিনে।

চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা একজন প্রার্থী জানিয়েছেন তার আজকের পরীক্ষার অভিজ্ঞতা। ওই প্রার্থী রাজশাহী কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা শেষ করে এ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নই আমাকে বেশি করা হয়। প্রথমে আমার নিজের জেলা সম্পর্কে কয়েকটা প্রশ্ন করেন। জেলার বিখ্যাত কয়েকজন ব্যাক্তির নাম জানতে চান। এরপর বলেন, নিম্নক্রম থেকে ঊর্ধ্বক্রমানুসারে প্রশাসনিক কাঠামো ব্যাখ্যা করুন। শিক্ষকতা তো করতে চান। কাকে আপনি আদর্শ শিক্ষক হিসেবে মানেন? আমি আমার কলেজের একজন প্রিয় শিক্ষকের নাম বললাম। এরকম তিন থেকে চার মিনিট প্রশ্নত্তোরের পর আমাকে আসতে বলা হয়।

ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে আসা ঢাকা কলেজের একজন প্রার্থী উচ্ছসিত কন্ঠে একটু ভিন্ন কথা জানালেন। তিনি জানান, প্রায় ১১ থেকে বার মিনিট একটা দীর্ঘ সময় তারা আমার সাথে কথা বলেন। অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে আমাকে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নই বেশি করেছেন। পরীক্ষকরা বলেন, ধরুন আমরা তিনজন আপনার ছাত্র। আপনি ‘সুযোগ ব্যায়’ নিয়ে আমাদের ক্লাস নেন। আমি ২ থেকে তিন মিনিট তাদেরকে শিক্ষক হিসেবে ‘সুযোগ ব্যায়ের’ ওপর ক্লাস নিলাম। প্রান্তিক ব্যায় নিয়েও কয়েকটা প্রশ্ন করেছেন। এরপর বললেন, এমআরএস-এর পূর্ণরূপ কী? আমি জবাব দেওয়ার পর মনে হল তারা আমার প্রতি একটু খুশী হয়েছেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকেও আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়। যেমন- মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হওয়ার কারণ কী কী বলে আপনি মনে করেন? শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ কী? আমি আমার মত করে আত্মবিশ্বাসের সাথে গুছিয়ে বললাম সব। তবে শেষের দিকে আমি একটু ঘাবড়ে যায়। এসময় কয়েকটা প্রশ্ন আমাকে ইংরেজিতে করা হয়। অভ্যাস না থাকায় আমি একটু বিচলিত হয়ে পড়ি। এরপরে আমাকে আসতে বলেন।

পটুয়াখালীর বাউফল থেকে আসা রাষ্ট্রবিজ্ঞনের এক প্রার্থী বলেছেন, প্রথমে তারা জিজ্ঞেস করেন বাংলাদেশের আইনসভার নাম কী। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রতির নাম কী? একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর উপাধী উল্লেখ করে আমার থেকে জানতে চান এটা কার উপাধি। এরমক কয়েকটা প্রশ্ন করে আমাকে বিদায় করেন।

বগুড়া আজিজুর হক কলেজ থেকে এসেছিলেন আশরাফুল নামের এক প্রার্থী। কিন্তু নিজ বাড়ি গাইবান্ধায় হলেও অর্থনীতি বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করেছেন বগুড়া আজিজুল হক সরকারি কলেজে। ৫-৬ মিনিট ভাইভা বোর্ডে থাকতে হয়েছিল বলে তিনি জানান। তার ভাষ্যমতে- তারা আমাকে বলেন, অর্থনীতি কী? সীমিত সম্পদ দিয়ে কীভাবে অসীম অভাব পূরণ করা হয় বুঝিয়ে বলুন। এগুলো সম্পর্কে বলার পর নিজ জেলা নিয়ে আমাকে অনেকক্ষণ কথা বলতে হয়। গাইবান্ধা নামকরণ কীভাবে হল? কতসালে গাইবান্ধা জেলার নামকরণ ও প্রতিষ্ঠা হয়? গাইবান্ধার পাশে অবস্থিত অন্য জেলার একটি উপজেলার নাম বলুন। এই জেলার দক্ষিণে কোন উপজেলা অবস্থিত? গাইবান্ধা নামকরণ করার সময় কতটি গাভী ছিল। এই উত্তরে যখন ৬০ টি গাভী একসাথে বাধা ছিল বলে এর নাম হয় গাইবান্ধা, তখন তারা  একটু হেসে ফেলেন। তারপর বলল আপনি এখন আসতে পারেন।

বগুড়া সদর থেকে আসা একজন নারী প্রার্থী বলেন, নিজের জেলার নাম জানতে চাওয়া হলে আমি বলি। এরপর জানতে চাইলেন আপনার জেলার প্রধান প্রধান ফসল কী কী? আমি বলি আলু। তারা বললেন, তাহলে বলুন আলুর অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে। এবার বলুন ছদ্মবেশী বেকারত্ব কী এবং এটা ঘটার কারণ কী?

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়ুয়া একজন আদিবাসী নারী শিক্ষার্থী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে ৩ থেকে ৪ মিনিট আমাকে কয়েকটা প্রশ্ন করেন। যেমন- উন্নয়নের অবকাঠামো আলোচনা করুন । বিশ্বায়ন কী বুঝিয়ে বলুন। ছয় দফা ও ১১ দফা সম্পর্কে কতটুকু জানেন?

সকাল ১০ থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় মোট ৪০০ জন প্রার্থী এভাবেই তাদের ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানান। তারা সকলেই একটা কথা বারবার বলছেন যে, পরীক্ষকরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক মৌলিক প্রশ্ন বেশি করেছে। নিজ বিষয়ের উপর যাদের ভাল দখল আছে তারা মোটামুটি ভাল করতে পারছে। নিজ জেলা, নিজের নাম সম্পর্কেও অনেককে প্রশ্ন করা হয়েছে।

যারা পরীক্ষার্থী আছেন তারা এ বিষয়গুলোর উপর একটু গুরুত্ব দিলে উপকৃত হতে পারেন। যারা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।


No comments:

Post a Comment

Copyright © ejobscircular24