Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!.

নন ক্যাডারপ্রাপ্ত তরুণদের আর্তনাদ শুনবে কে | ejobscircular24

Government - Non Government job circular and news of Bangladesh

নন ক্যাডারপ্রাপ্ত তরুণদের আর্তনাদ শুনবে কে

‘নন ক্যাডার’প্রাপ্তরা নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন। ৩৫তম বিসিএসে যারা এ অবস্থার শিকার তারা নিজেদের হতাশা কোথাও প্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। নিজেদের মনের দুঃখ ফেসবুকে লিখে শেয়ার করছেন। কিন্তু সরকারের কোনো তরফ থেকে সান্ত্বনার বাণী পাচ্ছেন না। তারা বলতে চাচ্ছেন, কষ্ট করে বিসিএসের প্রাথমিক, লিখিত ও শেষে মৌখিক পরীক্ষায় যোগ্যতা প্রদর্শন করেও পিতা-মাতার মুখে হাসি ফোটাতে পারছেন না। উপরন্তু আছে বিভিন্ন স্তরের কোটা বা সংরক্ষিত পদের সংখ্যা। ফলে নন ক্যাডার থেকে প্রথম শ্রেণির পদ পাওয়া বেশ কঠিন। ৩৫তম বিসিএসে ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারিতে অংশগ্রহণ করেন প্রায় আড়াই লাখ প্রার্থী। তার মধ্যে পিএসসি ১০ থেকে ২০ হাজারের মতো প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষার সুযোগ দেয়। দ্বিতীয় ধাপে ৯০০ নম্বরের, আবার কেউ কেউ ১ হাজার ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৬ হাজার থেকে ১০ হাজারের মতো। ৩৫তম বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় মাত্র ৬ হাজার ৮৮ জন উত্তীর্ণ হন; তাদের তৃতীয় তথা সর্বশেষ ধাপে ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। সেখানে পাস করেন ৫ হাজার ৫৩৩ জন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ১৫৮ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশ করা হয়; বাকি ৩ হাজার ৩৫৯ জনকে রাখা হয় ‘নন ক্যাডার’ তালিকায়। এভাবে তিনটি ধাপে মোট ১ হাজার ৫০০ নম্বরের পরীক্ষায় পাস করে কেউ হাসেন; আবার কেউ কান্নাভরা বুকে অশ্রুতে ভাসেন। অনেকে ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন; আবার কারও ভাগ্যে জোটে নন ক্যাডার নামক তকমা। তাদের মধ্যে অনেকে ‘নন ক্যাডার’ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন; অনেকে হন বঞ্চিত।

গত বছর প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, বর্তমানে প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদফতরে শুধু ‘প্রথম শ্রেণি’র ৩৯ হাজার আর দ্বিতীয় শ্রেণির ৪০ হাজারের মতো পদ শূন্য। নন ক্যাডারপ্রাপ্ত ৩ হাজার তরুণ কি শূন্য থাকা ৩৯ হাজার পদের মধ্য থেকে ১টি করে চাকরি পাওয়ার যোগ্য নন? আমরা এও জানতে পেরেছি, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে সাড়া দিচ্ছে না। অর্থাৎ মন্ত্রণালয়গুলো পিএসসিতে চাহিদা না পাঠানোয় বিসিএস-উত্তীর্ণ বিপুলসংখ্যক প্রার্থী নিয়োগ পাননি। সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতরগুলোর এ ধরনের আচরণের কারণই বা কি? অথচ নন ক্যাডার থেকে নিয়োগের জন্য ২০১০ সালের ১০ মে প্রজ্ঞাপন করে ‘নন ক্যাডার বিধিমালা-২০১০’ জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, শূন্যপদের ৫০ শতাংশ বিসিএসে উত্তীর্ণদের দ্বারা পূরণ করা হবে। পরবর্তী বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত আগের বিসিএস থেকে নিয়োগ চলবে। ২০১৪ সালে এ বিধি সংশোধন করে প্রথম শ্রেণির নন ক্যাডার পদের পাশাপাশি দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা পদেও নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়। কিন্তু এর পরও চাকরি পাচ্ছেন না সবাই। বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রের প্রতিটি নারী-পুরুষ চাকরির ক্ষেত্রে সমান সুবিধা লাভ করবে। শিক্ষিত তরুণরা যোগ্যতা সত্ত্বেও সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। অথচ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) প্রতিটি বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল দেওয়ার সময় ‘পদস্বল্পতা বা শূন্যপদের সংখ্যা কম’ থাকায় সবাইকে ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ না করে নন ক্যাডারে সুপারিশ করে। এখানে প্রার্থীদের প্রশ্ন, শূন্যপদের সংখ্যা কম বা পদের স্বল্পতা হলে কীভাবে পিএসসি পরবর্তী বিসিএসের আয়োজন করে? কেন আগের বিসিএসে উত্তীর্ণদের সৃষ্ট ওইসব শূন্যপদে নিয়োগ করে না? পিএসসি যখন ফলাফল ঘোষণা করে তখন হয়তো পদসংখ্যা কম থাকে, কিন্তু পরবর্তীতে পদ সৃষ্টি হলে কেন তাদের ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ না করে আরেকটি বিসিএস পরীক্ষা গ্রহণের সময় ঘোষণা করে? এতে কি সরকারি অর্থ আর সময়ের অপচয় হচ্ছে না? যারা ৩৫তমের আগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন তারা কীভাবে নিশ্চয়তা পাবেন যে, পরবর্তী বিসিএসে তারা আবার ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি, ৯০০ নম্বরের লিখিত ও ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন? তা ছাড়া এত পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের পর যদি ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত না হন, তাহলে তাদের মানসিক অবস্থা কেমন হয়— তা কেবল নন ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত ব্যক্তিমাত্রই জানেন। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয় যখন নন ক্যাডার থেকেও একটি চাকরি না জোটে। বিগত দুটি বিসিএসে ফারদিন, খোরশেদ আলমসহ অনেকের ক্ষেত্রে এমনটিই হয়েছে। প্রতিটি নন ক্যাডারধারী চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকেন পিএসসির ওয়েবসাইটের দিকে। বিসিএসে উত্তীর্ণ নন ক্যাডার সবার প্রথম শ্রেণির চাকরি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। এজন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পদ শূন্য থাকার পরও পিএসসিতে তারা চাহিদাপত্র দেয় না বলে অধিকাংশ নিয়োগবঞ্চিত থাকেন বলে যে অভিযোগ রয়েছে তার সুরাহা করতে হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যারা ক্যাডার হয়েছেন তারা নন ক্যাডারদের চেয়ে বেশি মেধাবী, এটা অস্বীকার করছি না, কিন্তু নন ক্যাডাররা যে একটা প্রথম শ্রেণির যোগ্য, তাও সবাইকে মানতে হবে। ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে উত্তীর্ণ যোগ্য নন ক্যাডারপ্রাপ্ত তরুণদের প্রথম শ্রেণির পদে নিয়োগ প্রদান করলে দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সরকারি সেবা পাওয়া যেমন সহজ হবে পাশাপাশি ওই যুবকদের অনেকেরই লালিত স্বপ্ন সত্য হবে। অনেকে বেকারত্বের করুণ দশা থেকে মুক্তি পাবেন। উপকৃত হবে দেশ। তাই একদিকে বাড়বে সরকারের সুনাম, অন্যদিকে কমবে সরকারি অর্থের অপচয়। শেখ হাসিনার সরকার নন ক্যাডারদের নিয়োগে যুগোপযোগী ‘নন ক্যাডার বিধিমালা’ প্রণয়ন করেছে। এজন্য আমরা ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ৩ হাজার ৩৫৯ জন নন ক্যাডারকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ‘প্রথম শ্রেণি’র চাকরির জন্য আবেদন জানাচ্ছি। যুবসমাজ প্রথম শ্রেণির চাকরি পেলে, বিসিএস পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত না হওয়ায় যে হতাশা, কষ্ট, মানসিক যন্ত্রণায় দিনযাপন করছে, তা অনেকাংশে কমে আসবে।

লেখক : অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ এবং পরিচালক, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দফতর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।


No comments:

Post a Comment

Copyright © ejobscircular24