Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!.

ব্যাংকে ও বিকাশে মিলবে পেনশনের টাকা | ejobscircular24

Government - Non Government job circular and news of Bangladesh

ব্যাংকে ও বিকাশে মিলবে পেনশনের টাকা

মাসে মাসে পেনশনের টাকার জন্য এজি অফিস বা ব্যাংকে গিয়ে আর লাইন ধরতে হবে না। প্রতি মাসের ১ তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব বা বিকাশ হিসাব নম্বরে টাকা পৌঁছে যাবে। এরপর যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে তা তোলা যাবে। আগামী অর্থবছর থেকেই এ ব্যবস্থা কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট-১) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী  জানান, ডাটাবেইসে উপজেলাওয়ারি সব পেনশনারের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এখন তাঁদের দেওয়া ব্যাংক হিসাব নম্বর বা বিকাশ নম্বরে প্রতি মাসের ১ তারিখেই টাকা পৌঁছে যাবে।

মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সামরিক বাহিনীর পেনশনারদের জন্য একটি, বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি পেনশন অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া রেলের আলাদা অফিস আছে। আগামী অর্থবছর থেকে এসব অফিস পেনশনারের টাকা তাঁদের পছন্দের হিসাবে প্রতি মাসের ১ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা সরকারের অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠিয়ে দেবে। এ বিষয়ে কাজ চলছে। এ সুবিধা চালু হলে বাজেটে মন্ত্রণালয়ওয়ারি পেনশনে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার কোনো প্রয়োজনও থাকবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নির্দিষ্ট কোনো ব্যাংক নয়, পেনশন সুবিধাভোগীরা তাঁদের জন্য সহজ হয় এমন যেকোনো ব্যাংকের, যেকোনো শাখার হিসাব নম্বর দিতে পারবেন। যাঁদের ব্যাংক হিসাব নেই বা থাকলেও বিকাশ বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পেনশন পেতে চান, তাঁদের টাকা সেখানেই পাঠানো হবে।

পেনশন ব্যবস্থা সহজ করার জন্য কয়েক বছর ধরে কাজ করছে সরকার। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়কে বেশ কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এর আলোকে কল্যাণ তহবিল, সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও লাম গ্রান্টের চেক চাকরিজীবী অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার আগেই যাতে পান, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। পেনশনের জন্য যেসব দপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয়, সেগুলো আর পেনশনারকে সংগ্রহ করতে হবে না। কল্যাণ কর্মকর্তা নিজ দায়িত্বে তা সংগ্রহ করবেন। নির্ধারিত সময়ে সংগ্রহ করতে না পারলে পেনশনার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো আপত্তি নেই বলে ধরে নেওয়া হবে। এ ছাড়া বর্তমানে চাকরিজীবী স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী আজীবন পেনশন সুবিধা পান। কিন্তু চাকরিজীবী স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বামী সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত এ সুবিধা পান। এ বৈষম্যও দূর করার কথা ভাবছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, পেনশনার ডাটাবেইসে এ পর্যন্ত ছয় লাখ ৭৬ হাজার ৯৬ জনের নাম নিবন্ধিত হয়েছে। তাঁরা সবাই বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বা তাঁদের পরিবারের পেনশন সুবিধাভোগী। ডাটাবেইসের আগে সারা দেশে মোট কতজন পেনশন সুবিধা ভোগ করতেন, সে তথ্য সরকারের কোনো সংস্থার কাছে নেই। তবে পেনশনার ডাটাবেইস হওয়ার আগে সারা দেশে প্রায় এক লাখ ভৌতিক পেনশনার ছিলেন, যাঁরা এখন উধাও হয়ে গেছেন বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী জানান, আগে অনেক ভৌতিক পেনশনার ছিলেন। তাঁরা এখন আর ডাটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত হতে পারছেন না। তিনি বলেন, একজন পেনশনার ঢাকার সিজিএ অফিস থেকে পেনশন নেওয়ার পাশাপাশি আরেকটি আলাদা পেনশন বই ম্যানেজ করে নিজের এলাকার সোনালী ব্যাংক থেকেও পেনশন নিতে পারতেন। দুষ্ট প্রকৃতির লোকজন নানা অবৈধ পন্থায় ভুয়া পেনশনার হয়ে সুবিধা ভোগ করতেন। তাঁরা এখন আর তা করতে পারছেন না। কারণ, একটি বইয়ের বিপরীতে একজন পেনশন পান। ডাটাবেইসে পেনশনাররা যে তথ্য দিচ্ছেন, সেখানে একই ব্যক্তি দুটি বইয়ের তথ্য দিলেই ধরা পড়ে যাবেন। সে কারণেই পেনশনারের সংখ্যা এখন কমে গেছে।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত সিজিএ কামরুল ইসলাম  বলেন, ‘পেনশন নিয়ে বাংলাদেশে তেমন কোনো কাজ হয়নি। ফলে আগে কতজন এ সুবিধা ভোগ করতেন, তা কেউ সঠিকভাবে বলতে পারছেন না। তবে আমাদের ধারণা ছিল, প্রায় সাড়ে সাত লাখ পেনশনভোগী ছিলেন। ’

কামরুল ইসলাম বলেন, পেনশনের ক্ষেত্রে যে অনিয়ম হয় না তা বলা যাবে না। তবে অবৈধভাবে এ সুবিধা ভোগকারী শনাক্তে এখন পর্যন্ত কোনো স্টাডি হয়নি।

কামরুল ইসলাম বলেন, সাধারণত উপজেলার সোনালী ব্যাংকের শাখা থেকেই বেশির ভাগ পেনশনার টাকা তুলে থাকেন। আর সরকারের তরফ থেকে ধরে নেওয়া হতো যে, ওই ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপজেলার সব পেনশন সুবিধাভোগীকে চেনেন। কেউ যদি ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে পেনশন তুলতে যান আর ব্যাংক কর্মকর্তারা তাঁকে চেনার পরও অর্থ দেন, সে ক্ষেত্রে ওই কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভুয়া পেনশনারের যোগসাজশ থাকে। ফলে এদের শনাক্ত করা কঠিন হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে বেসামরিক সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১০ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮১ জন। চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণী ডাটাবেইসে মোট ১১ লাখ ৯ হাজার ৯৫ জন তথ্য দিলেও এর মধ্যে বাকি ১৯ হাজার ৩১৪ জনের তথ্যে গরমিল রয়েছে, না হয় তারা ভুয়া।

এই ডাটাবেইসের কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় খুব সহজেই বুঝতে পারছে, কোন বছর কোন গ্রেডের কতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরে যাবেন, তাঁদের পেনশন বাবদ কত টাকা খরচ হবে।


No comments:

Post a Comment

Copyright © ejobscircular24