Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!.

১৬ মাসেও নিয়োগ পাননি তাঁরা | ejobscircular24

Government - Non Government job circular and news of Bangladesh

১৬ মাসেও নিয়োগ পাননি তাঁরা

৩৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ ৭০ জনকে খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। কিন্তু ১৬ মাস পরও তাঁরা দ্বিতীয় শ্রেণির এই পদে নিয়োগ না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন।

উত্তীর্ণ এই প্রার্থীরা বলছেন, ২০১৫ সালের ২৬ আগস্ট পিএসসি তাঁদের ৭০ জনকে খাদ্য পরিদর্শক পদে নিয়োগের সুপারিশ করে। ৩৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ অপর যে ৯১২ জনকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নন-ক্যাডার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল পিএসসি, তাঁরা সবাই নিয়োগ পেয়েছেন। কিন্তু খাদ্য পরিদর্শকের ১৫০টি পদ এখনো শূন্য থাকলেও তাঁরা নিয়োগ পাচ্ছেন না। নিয়োগ পেতে মন্ত্রণালয় আর অধিদপ্তরে ঘোরাঘুরি করছেন। তাগাদা দিতে বিভিন্ন সময় পিএসসিতেও চিঠি দিয়েছেন। অবশ্য তাঁদের পুলিশ যাচাই ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন নিয়োগ বিধিমালা না হওয়ায় এই নিয়োগ ঝুলে আছে। তবে প্রার্থীরা বলছেন, নিয়োগ বিধিমালা না থাকলেও একই সময়ে পিএসসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইফার কর্মকর্তা পদে যাঁদের সুপারিশ করেছিল, তাঁরা তো নিয়োগ পেয়েছেন। তাই তাঁদেরও নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘পিএসসির কাজ সুপারিশ করা। পিএসসি সেটা করেছে। কিন্তু সুপারিশের পরও কেন নিয়োগ হচ্ছে না, সেটা মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরই ভালো বলতে পারবে। তবে প্রার্থীদের সঙ্গে এমন দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়।’

এদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয় চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দিয়ে এক চিঠিতে বলেছে, নিয়োগ বিধিমালা না থাকার অজুহাতে যদি এই প্রার্থীদের চাকরি না দেওয়া হয়, তবে তাঁরা যেমন হতাশ হবেন, তেমনি দেশ মেধাবী কর্মকর্তাদের পাবে না। খাদ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক পদে শূন্যতার কারণে মন্ত্রণালয়েরও সমস্যা হচ্ছে। দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে ওই ৭০ জনকে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া উচিত।

নিয়োগের সুপারিশ পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করা এক প্রার্থী প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এর ফলে একই সঙ্গে নিয়োগের সুপারিশ পাওয়া অন্যরা আমাদের চেয়ে জ্যেষ্ঠ হয়ে যাবেন।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) করা অপর এক প্রার্থী বলেন, ‘নিয়োগের সুপারিশ হওয়ায় ভেবেছিলাম দ্রুত চাকরিতে যোগ দিয়ে পরিবারের হাল ধরব। কিন্তু এখনো পরিবারের বোঝা হয়ে আছি।’ উত্তীর্ণ আরেক প্রার্থী বলেন, ‘সুপারিশ পেয়েও ১৬ মাস ধরে বেকার জীবন কাটাতে হচ্ছে। এটা যন্ত্রণার।’

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বদরুল হাসান বলেন, ১৯৮৩ সালে সামরিক শাসনামলে করা নিয়োগ বিধিমালা এখন অকার্যকর। ফলে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। নতুন নিয়োগ বিধিমালা হচ্ছে। পিএসসির সুপারিশ পাওয়া অন্যরা নিয়োগ পেলেও এই ৭০ জন কেন পাচ্ছেন না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’

জানতে চাইলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উপসচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নতুন নিয়োগ বিধিমালার খসড়া তৈরি করে জনপ্রশাসনে পাঠিয়েছি গত মে মাসে। সেটি যাচাই-বাছাই চলছে। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত করলে এটি পিএসসি, এরপর আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ না হলে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।’

 


No comments:

Post a Comment

Copyright © ejobscircular24