Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!.

বিসিএসে ৫০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা, মৌখিকের নম্বরও কমবে | ejobscircular24

Government - Non Government job circular and news of Bangladesh

বিসিএসে ৫০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা, মৌখিকের নম্বরও কমবে

বি সি এস পরীক্ষায় মাত্র ৫০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। মৌখিক পরীক্ষার নম্বরও কমিয়ে আনা হবে। প্রচলিত একক পরীক্ষকের পরিবর্তে দ্বৈত পরীক্ষক পদ্ধতি চালু করা হবে। ইংরেজির ওপর জোর দেয়া হবে। বি সি এস পরীক্ষার খাতা বাসায় নিয়ে দেখার সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হবে। পিএসসিতে বসেই খাতা দেখা শেষ করতে হবে।
প্রচলিত দীর্ঘ মেয়াদী পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ লাখো তরণ-তরুণীর মূল্যবান সময় নষ্ট করছে।  তাই এ শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরীক্ষা পদ্ধতির খোলনলচে পাল্টানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। সরকারের উচ্চমহলের সঙ্গে কথা বলে এসব পরিবর্তনের পরিকল্পনা জানা গেছে। 

একাধিক সূত্র দৈনিকশিক্ষাকে জানায়, বিসিএস পরীক্ষার সংস্কারের খুটি-নাটি বিষয় নিয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যরা একাধিক বৈঠক করেছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ সরকারের নীতিনির্ধারকদের সাথেও আলোচনা করেছেন। সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই এসব পরিবর্তন নিয়ে কাজ শুরু করেছে পিএসসি।
সম্প্রতি জন প্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে পিএসসিকে নির্বাচন কমিশনের মতো ব্যয় বিভাজনের আর্থিক স্বাধীনতা দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। গত ২৬ অক্টোবর অর্থমন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেছেন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের আর একটি মাত্র কমিশন আছে তা হলো বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনকে ইতিমধ্যে বরাদ্দকৃত বাজেটের মধ্যে ব্যয় বিভাজনের আর্থিক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। এই স্বাধীনতা দিয়ে সরকার যে প্রশংসার কাজটি করেছে তা একই ধরনের প্রতিষ্ঠান পাবলিক সার্ভিস কমিশনকেও দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন তারা শিগগিরই এসংক্রান্ত আর্থিক স্বাধীনতা পিএসসিকে দেবেন।
পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতিতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। একজন প্রার্থীর পক্ষে মাসের পর মাস ধরে পরীক্ষা দেওয়া কষ্টকর। যে কারণে  অনেক মেধাবীই প্রতিযোগিতামূলক এ পরীক্ষায় অংশ নেন না। তবে প্রচলিত পদ্ধতি তা রাতারাতি পাল্টে ফেলা যাবে না। ধীরে ধীরে সংস্কার করা হবে।’
তিনি বলেন, “লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমালেও প্রার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা যাচাইয়ে কোন ঘাটতি হবে না। কারণ কম নম্বরের মধ্যেও মানসম্পন্ন প্রশ্ন করে প্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব।’
জানা যায়, বর্তমান বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতি তিন স্তর বিশিষ্ট। ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতির প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর হয় লিখিত পরীক্ষা। ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার পর তৃতীয় স্তরে ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও বাংলাদেশ বিষয়াবলীতে ২০০ করে ৬০০ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী, গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা এবং সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে ১০০ করে মোট ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পিএসসি সূত্র জানায়, ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নিতে পিএসসির এক মাসের বেশি সময় লেগে যায়। ৩৭তম বিসিএসের প্রার্থী ছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন। তাদের মধ্যে ৮  হাজার ৫২৩ জনকে বাছাই করা হয়েছে ১ হাজার ২২৬টি পদের জন্য। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করতেই আট মাস সময় লেগেছে। এই দীর্ঘ সময় প্রার্থীদের পরীক্ষা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। এরপর লিখিত পরীক্ষাতো আছেই। মৌখিক পরীক্ষা শেষে ৩৭তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের প্রত্যাশিত তারিখ হচ্ছে ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট। ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা ৫০০ তে নামিয়ে আনার চিন্তা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিসিএসের বিস্তৃত সিলেবাস কমিয়ে আনা হবে। বাংলার ওপর নির্ভরতা কমানো হবে। কারণ ১৯৯০ সালের পর থেকে বাংলার ওপর জোর দিতে গিয়ে প্রশাসনে ইংরেজি জানা কর্মকর্তার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। একারণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইংরেজির ওপর জোর দেওয়া হবে। ইংরেজির বিষয়ে কিভাবে সংস্কার আনা হবে তা এখনো বের করা সম্ভব হয়নি। তবে ইংরেজি মাধ্রমে যারা পরীক্ষা দেবেন তাদেরকে সুবিধা দেওয়ার কথা চিন্তা করা হচ্ছে।
প্রচলিত ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। মৌখিক পরীক্ষায় এতো বেশি নম্বর থাকলে দুর্নীতির সুযোগ থাকে বলে মনে করা হয়। তবে, মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে থাকেন তিন জন। আর লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখেন একজন। মৌখিক পরীক্ষায়  কমিশনের চেয়ারম্যান বা সদস্য ছাড়াও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞের সাথে থাকেন একজন বিভাগীয় প্রতিনিধি। তারপরও লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমে ৫০০ হলে মৌখিকে তা সর্বোচ্চ ১০০ হতে পারে।
জানা যায়, বিভিন্ন সময় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানো-বাড়ানো হয়েছে। নিশ্চয়ই এটার প্রয়োজন ছিল। অনেক সময় লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত মেধা যাচাই করা সম্ভব হয় না। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব বোঝা যায়। সার্বিক বিষয়ে তার জ্ঞান ও দক্ষতা কতটা প্রখর তা অনুমান করা যায়। এসব কারণে পিএসসি মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখার পক্ষে। তাছাড়া মৌখিক পরীক্ষার যখন নম্বর দেওয়া হয় তখন ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় কত পেয়েছেন তা জানেন না।
পিএসসি সূত্রে জানা যায়, সরকারের রাজস্বভান্ডার সম্বৃদ্ধ করছে পিএসসি। কারণ একটা বিসিএসে পিএসসির ফান্ডে জমা হয় প্রায় আট কোটি টাকা। সেখান থেকে মাত্র তিন কোটি টাকা খরচ হয় সংশ্লিষ্ট বিসিএসের সব কার্যক্রম শেষ করতে। অবশিষ্ট পাঁচ কোটি টাকা জমা হয় সরকারের কোষাগারে। এসব কারণে পিএসসি চাচ্ছে আরো কিছু টাকা ব্যয় করে হলেও সার্বিক বিষয়ে একটা মান্নোয়নের জন্য। বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর পরীক্ষা নিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিতে হয়। কিন্তু এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা পিএসসির বিসিএস পরীক্ষার বিষয়ে আগ্রহ দেখান না। কারন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা হলে দায়িত্ব পালন করে যে পরিমান টাকা পাওয়া যায় পিএসসির পরক্ষিায় তার চেয়ে অনেক কম টাকা পাওয়া যায়। একটা বোর্ডের পরীক্ষায় একদিনে দুই হাজার টাকাও আয় করা যায়। আর পিএসসির পরীক্ষায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা পেতে পারেন। একারণে পিএসসি পরীক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়ায়ও সংস্কার আনতে চায়।
পিএসসির একজন সদস্য জানিয়েছেন বর্তমানে পরীক্ষকদের খাতা দেখার জন্য খাতা তাদের বাসায় নিতে দেওয়া হয়। এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এতে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই সমস্যা দূর করার উপায় খুঁজে বের করেছে পিএসসি। সংস্কারের অংশ হিসেবে খাতা আর পরীক্ষকের বাসায় পাঠানো হবে না। পরীক্ষক পিএসসিতে বসে খাতা দেখবেন। তার যত রকমের সহায়তা দরকতার পিএসসি তাকে দেবে। এতে করে সংশ্লিষ্টরা কম সময়ে অনেক বেশি খাতা দেখতে পারবেন। এর ফলে কম সময়ে ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাতা দেখার জন্য পরীক্ষকদের অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হবে অর্থাৎ তাদের সম্মানীভাতা বাড়িয়ে দেওয়া হবে। খাতা দেখার পদ্ধতিতেও সংস্কার করা হবে জানিয়ে একজন সদস্য বলেন, বর্তমান নিয়মে একজনে খাতা দেখেন। এতে ভুল হওয়ার অনেক বেশি সম্ভাবনা থাকে। ভুল করার এই ঝুঁকি থেকে বের হয়ে আসার জন্য খাতা রি-চেক করা হবে। প্রতিটি খাতাই রি-চেক করা বাধ্যতামুলক করা হবে। এতে আপাতত সময় বেশি লাগবে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সময় বেশি লাগবে না। কারণ খাতা দেখানো হবে পিএসসিতে।
একজন সদস্য বলেছেন বর্তমানে ম্যানুয়ালি বিসিএস পরীক্ষার ফলা ফল তৈরি করা হয়। একজন সদস্যের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্টরা বসে সবকিছু সংযোজন-বিয়োজন করে ফলাফর তৈরি করা হয়। সংস্কারের আওতায় ফলাফল যেন প্রযুক্তির সহায়তার অল্প সময়ে তৈরি করা যায় সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। তিনি আরো জানান বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর এমসিকিউ টাইপ বাছাই পরীক্ষা ওএমআর রিডেবল উত্তরপত্রে গ্রহন করা হয়। পরীক্ষার উত্তরপত্র ওএমআর মেশিনে স্ক্যান করে ফলাফল তৈরি করা হয়। পিএসসির মাত্র চারটি ওএমআর মেশিন রয়েছে। পিএসসির আরো ওএমআর মেশিন কেনা হবে।
জটিল মেধা কোটায় কোন পরিবর্তন আসবে কি না জানতে চাইলে একজন সদস্য বলেন, যতই কোটা সিস্টেম থাকুক প্রকৃত মেধাবীরাই বিসিএস চাকরি পান। কারণ পিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সবাই সমানভাবে অংশ গ্রহন করেন। এসব ধাপ পেরুলেই কেবল কোটার প্রশ্ন। তাছাড়া যখন কোটার প্রার্থী পাওয়া না যায় তখন মেধা কোটা থেকেই প্রার্থীদের চাকরি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, বিসিএসসহ প্রথম শ্রেণী ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সব চাকরি ৪৫ ভাগ মেধার ভিত্তিতে হয়। অবশিষ্ট ৫৫ভাগ চাকরি হয় প্রাধিকার কোটায়। এরমধ্যে ৩০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ ভাগ মহিলা, ৫ ভাগ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি, ১০ ভাগ জেলা এবং প্রাধিকার কোটার কোন পদ অপূর্ণ থাকলে ১ ভাগ প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের জন্য কোটা সংরক্ষণ করা হয়।

বিশিষ্ট শিক্ষা সংস্কারক ও সাবেক শিক্ষা সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান দৈনিকশিক্ষাডটকমকে বলেন, পরীক্ষা পদ্ধতি পাল্টানো খুবই জরুরি। ইংরেজিও ওপর জোর দিতে হবে। পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পূর্ণ  পাল্টাতে হবে।


No comments:

Post a Comment

Copyright © ejobscircular24