Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!.

A Short Story-written by Shisir | ejobscircular24

Government - Non Government job circular and news of Bangladesh

A Short Story-written by Shisir


শ্যামল ছায়া অবলম্বনে রচিত

আমার নাম হাসান,হাসান আলি বাপ মা বহুত আগেই মার গেছে, ছোডবেলা থেইকা চেয়ারম্যান বাড়িতে মানুষ । হেইদিন চেয়ারম্যান আইসা কইলেন বাবা হাসান রাজাকার হইয়া পড় । ৭০ টাকা মাস মাইনা, তারা সাথে খোরাকি আর কাপড় । চেয়ারম্যান সাব আমার বাপের চেয়ে বেশি, নেকবক্ত পরহেজগার লোক,তার কথা ফালাই এমন সাধ্য আমার নাই, আমার শরিরের চামড়া দিয়া জুতা বানায়া দিলেও হের ঋণ শোধ হইবো না । যাইহোক জুম্মবাদে চেয়ারম্যানসাব আর তার বিবিরে কদমবুচি কইরা বাইর হইলাম, চেয়াম্যান সাব কইলেন আল্লাহর হাতে সোপার্দ হাসান আলি । সাচ্চা দিলে কাম করবা । হালাল পয়সা কামাবা । যাওনের আগে মসজিদে গেলাম দোয়া লইতে, মসজিদের মৌলানা সাব আইসা কইলেন বাবা হাসান এই শুনলাম রাজাকার হইচ,ভালা করচ তয় বাবা একখান কথা শুনছি রাজাকাররা বড়ো অত্যাচার করে, মানুষ মারে লুটপাট করে । দেইখো বাবা সাবধান ।খারাপ কাম করলে আল্লার কাছে জাবাবদিহিতা করতে হইবো । আখিরাতে শোয়াব পাইবা না । মনডায় কামড় মারলো, কামডা মনে হয় ঠিক হইলো না । আমাগো গ্রামে তখনো রাজাকার দল হয় নাই । আমরা হইলাম পরথম দল, ৭ দিন ট্রেনিং লেফ রাইট, লেফ রাইট । বুকটা কান্দে রাইতে ঘুম হয়না । আমাগো সাথে আছিলো রাধানগরের কেরামত মওলা । হে আছিলো রাজাকার কমান্ডার ফেরেস্তার মত মানুষ গজল গান যখন ধরতো, চক্ষের পানি ধইরা রাখন যাইতো না । হিন্দুর ঘরে আগুন দেওন শুরু হইলো, কেরামত ভাই প্রতিবাদ করলেন, তার সাহসের সীমা নাই বুক ফুলাইয়া কইলেন আগুন নেই দেঙ্গা । ওস্তাদজী কইলেন ও তো হিন্দু হ্যায়, গাদ্দার হ্যায় । কেরামত ভাইয়েরে চোক্ষু বাইন্দা লইয়া গেল, ২ দিন পরে তার লাশ নদীতে ভাইস্যা উঠলো । ইয়া মাবুদে ইলাহি, ইয়া পরওয়ার দেগার, কী দেখলাম, আমি এইডা কী দেখলাম । মিলিটারি যা করে, তাই করি নিজের হাতে আগুন লাগাইলাম সতীশ পালের বাড়ি, কানু চক্রবর্তীর বাডি, পন্ডিত মশাইয়ের বাড়ি । শেষমেষ মিলিটারিরা শরাফত সাবের বড় পুলাডারে ধইরা আনলো । আহারে কান্দন ছেলেডার, বন্দুকের সামনে খাড়াইয়া ওমন সুন্দর মুখটা কালা হইয়া গেছে । আমার মাথায় গন্ডগোল হইয়া গেছে, দূরে খাড়াইয়া আল্লা রসুলের নাম নিতাছি । শেষকালে পোলাডা আমার পায়ে পইড়া কইলো ও হাসান ভাই,হাসান ভাই আমারে বাঁচান । আমি ক্যাপ্টেন সাহেবের পাও জড়ায়া ধরলাম, লাভ হইল না । আহা রে, ভাই রে আমার । কইলজাডা পুড়ায় । আমি একটা কুত্তার বাচ্চা । সইন্ধ্যা কালে শরাফত সাহেবের বাড়িতে গেছিলাম,পোলাড়ে গুলি মাড়নের খবরডা কেউ তারে কয় নাই, শরাফত সাহেবের বৌউ আমারে দেইখা ছ্যুইট্টা আইলেন, কইলেন হাসান আমার পোলাডা বাঁইচা আছে তো? আল্লার দোহাই লাগে বাপ হাঁছা কথা কইবা । মিছা কথা কওন ছাড়া আমার আর কুনো উপায় আছিলো না । হেই রাইতেই গেলাম মসজিদে । পাক কোরআন হাতে লইয়া কিরা কাটলাম। মনে মনে কইলাম মুক্তিবাহিনিতে জোগ দিবাম এর শোধ তুলবাম । এর শোধ না তুললে আমি হাসান আলি না । এর শোধ না তুললে আমি বাপের পুলা না । এর শোধ না তুললে আমি বেজম্মা কুত্তা । রাত্তিরে ক্যাম্পে ফিরতেই হাবিলদার সাব কইলেন পূবের দিকে একখান লাশ পইড়া আছে, গিয়া দেখি কবিরাজ চাচার ছোট মাইয়া । কাপড়া দিয়ে শইলডা ঢাইক্যা দিলাম কইলাম, বইন মাফ করিস । এইডা কি চউক্ষে পানি আসে ক্যান? পোড়া চোখ এহন পানি ফালাইয়া কি লাভ? আগে তো দেখলি না । আগে তো আন্ধা রইলি । আল্লাহ আল্লাহ কইরা যদি ঘাটে পৌছাইতে পারি তয় রক্ষা । পীরের দরগাত সিন্নি মানলাম । ইয়া মাবুদ সাথের পুলাপানডিরে তুমি দেইখো, আমি মুক্তিবাহিনীতে যামু, আমি মরলেই বা কি? আমার লাইগা তো কান্দনের কেউ নাই । মরার পরে যদি হাসরের ময়দানে কবিরাজ চাচার ছোট মেয়াডার সাথে দেখা হয়, তয় কমু, বইন মুক্তিবাহীনিতে যোগ দিছি, এর শোধ তুলছি এখন ক মাফ করছস কি করস নাই ।


লেখকঃ শিশির



No comments:

Post a Comment

Copyright © ejobscircular24