Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!.

৩৫তম বিসিএসদের নিয়োগ এখনো অনিশ্চিত | ejobscircular24

Government - Non Government job circular and news of Bangladesh

৩৫তম বিসিএসদের নিয়োগ এখনো অনিশ্চিত

৩৫তম বিসিএসদের নিয়োগ এখনো অনিশ্চিত

BCS

লাইভ প্রতিবেদক: একটি জনপ্রিয় বাউল গানের প্রথম কলি ‘লালন তোমায় আরশি নগর, আর কত দূর, আর কত দূর’। ফকির লালন শাহের বিভিন্ন গানে আরশি নগরের উল্লেখ আছে। এটা হয়তো তাঁর মনের তীর্থভূমি। এখানে পৌঁছাতে চাইতেন তিনি। চেষ্টা করেছেন জীবনভর। পৌঁছাতে পেরেছিলেন কি না, তা আমাদের অজানা।

তবে বিসিএস পরীক্ষায় যাঁরা প্রতিযোগিতায় নামেন, তাঁদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত পৌঁছান লক্ষ্যে। কিন্তু সংখ্যানুপাতে খুবই কম। তা–ই হওয়ার কথা। পৌঁছানোর যে যাত্রাপথ, তা হয়তো আরশি নগরের মতো অপরিসীম নয়। সীমা একটা আছে। তবে তা সুদীর্ঘ। বিষয়টি হয়তো দীর্ঘদিনের চর্চার ফসল। কিন্তু উল্লেখ করার মতো কমছেও না।

৩৪তম বিসিএসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি থেকে মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল চূড়ান্ত করতে কমিশন সময় নিয়েছিল আড়াই বছর। আর ৩৫তম বিসিএসে দুই বছর। ছয় মাস কমাতে পেরেছে। এ জন্য সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) ধন্যবাদ পেতে পারে। কিন্তু লক্ষ্য হওয়া উচিত, প্রতিবছর বিসিএস পরীক্ষার নিয়োগ পর্ব এক বছরেই শেষ হবে।

আর এর বিকল্প কিছু হওয়ার কথাও নয়। বিষয়টি সম্ভব। তবে যেভাবে চলছে, তাতে সময়সীমা আর কমানো যাবে বলে মনে হয় না। ৩৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় গত বছরের ৩১ মে। সবেমাত্র লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে গত মার্চ মাসে ৩৭তমর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হলো প্রিলিমিনারি পরীক্ষা।

পিএসসি সুপারিশ চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে পাঠানোর পরও নিয়োগপত্র পেতে যতটুকু সময় নেওয়া হয় তা অগ্রহণযোগ্য। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশি প্রতিবেদনের জন্য ৩৪তম বিসিএসে নিয়োগ দিতে সময় লেগেছে নয় মাস। ৩৫তমতে কত লাগবে, এটা অনিশ্চিত। আর বিষয়গুলোও দিনে দিনে সহজ করার বদলে জটিল করে ফেলা হচ্ছে।

দেশে সিভিল সার্ভিসের মান নেমে যাওয়ার পেছনে এ অব্যবস্থারও দায় আছে। ত্যক্তবিরক্ত মেধাবীরা ভিন্ন পথ ধরেন। এটাকে আকর্ষণীয় করতে সরকার যৌক্তিক পর্যায়ে বেতন বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থাটি আছে একই অবস্থায়।

৩৫তম বিসিএসের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সুপারিশ পাঠানো হয় গত ১৭ আগস্ট। জানা যায়, এখনো স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। চাওয়া হয়নি নিরাপত্তা প্রতিবেদন। এটাকে পুলিশি প্রতিবেদন বলা এখন যৌক্তিক হবে না। পুলিশ ছাড়াও একটি গোয়েন্দা সংস্থা সব প্রার্থীর বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রতিবেদন দেয়।

এ দুটি প্রতিবেদনই নেওয়া হয় বিবেচনায়। যে বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত অতিগুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলো দেখে থাকে। নজরদারি করে সন্ত্রাসবাদসহ দেশের স্বার্থবিরোধী অনেক কাজের। বিষয়টি তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপই সৃষ্টি করল। এতে মূল কাজে সময় দিতে পারবে কিছুটা হলেও কম।

ব্রিটিশ শাসনামল থেকে সরকারি পদে নিযুক্তির জন্য পুলিশি প্রতিবেদনের নিয়ম ছিল। তখনো ছিল সন্ত্রাসবাদ। তবু আইসিএস, আইপিএস নিয়োগে পুলিশি প্রতিবেদনই যথেষ্ট বিবেচিত হয়েছে। তেমনি হয়েছে পাকিস্তান আমলে। এত দিন বাংলাদেশেও তা চলছিল। হঠাৎ নিয়ম পাল্টে গেল। জানা যায়, প্রতিবেশী ভারত এ ধরনের চাকরিতে নিয়োগের সূচনায় পুলিশি প্রতিবেদনকে এখন অপরিহার্য মনে করছে না। নিয়োগ হয়ে যায়। চলে পুলিশি অনুসন্ধান।

সেই প্রার্থীর অতীত কোনো দণ্ড বা ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাই থাকে অনুসন্ধানের বিচার্য বিষয়। বিরূপ কোনো প্রতিবেদন এলে তাঁর চাকরি চলে যায়। শিক্ষানবিশ হিসেবে সবার নিয়োগ হয়। সুতরাং কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই কর্তৃপক্ষ চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে পারে। তবে কার মামা, চাচা বা ফুপাতো ভাই কোন দল করেন বা করতেন, এগুলো থাকে না। আমাদের এখানেও ছিল না।

কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে ১৯৯১ সালে স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের উপহার হিসেবে আমরা এ ধরনের ব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে টেনে আনছি। পাকিস্তান আমলে বাঙালিরা বহুবিধ বঞ্চনার কারণেই স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তবে সে সময়ও সরকারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় নেতা–সমর্থকদের বেশ কয়েকজন প্রশাসন, পররাষ্ট্র ও পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগ পেয়ে কর্মজীবনে সফল হয়েছেন। বাম ঘরানার চিহ্নিত ছাত্রনেতারাও ছিলেন তাঁদের মধ্যে।

এটা সত্যি যে চলমান সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমের সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলে তার সরকারি চাকরি হবে না। হলেও চলে যাবে। স্বাধীনতার চেতনায় যারা বিশ্বাসী নয়, তাদের প্রশ্নেও একই কথা প্রযোজ্য। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চলমান অনুসন্ধান প্রক্রিয়াটি আরেকবার পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। পুলিশি প্রতিবেদনে কিংবা এমনিতেই সরকারের নজরে কারও বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এলে গোয়েন্দা সংস্থাকে বিশেষ বিশেষ কিছু প্রার্থীর ব্যাপারে তদন্ত করতে দায়িত্ব দেওয়া চলে।

আর স্বাস্থ্য পরীক্ষা! বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে ভাগ করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়। এক মাসে শেষ হতে পারে এ কার্যক্রম। যুগপৎ চলতে পারে পুলিশি অনুসন্ধান। এ দুটিই তো ২৭তম বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুই মাসে শেষ করে নিয়োগ দেওয়ার নজির রয়েছে। বিষয়গুলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন গুরুত্ব দেন না তা দুর্বোধ্য।

প্রার্থীরা চাকরির বাজারে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করেছেন আবেদনপত্র পেশের সময়কালে বা তারও আগে। সবাই সচ্ছল পরিবারের সন্তান নন। চাকরি হবে এ ভরসাতেই আছেন। কেউ অন্য কোথাও সাময়িকভাবে কোনো কাজে থাকতে পারেন। বেশির ভাগই বেকার। একধরনের অলস সময় পার করছেন তাঁরা।

অথচ জাতি বঞ্চিত হচ্ছে এই উজ্জ্বল তারুণ্যের সেবা থেকে। প্রায় প্রতিটি ক্যাডারে ভিত্তিমূলে কর্মকর্তার সংকট চলছে। আর বিসিএস কর্মকর্তা হওয়ার সব ধাপ দীর্ঘ সময় নিয়ে সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করে এসেও মাসের পর মাস নিয়ম-পদ্ধতির ফেরে বেকারত্বের সময় শেষ হয় না। হয়তো হবে একদিন। প্রশ্ন থেকে যাবে, এত বিলম্ব কেন? ভারত ও পাকিস্তান পারছে। আমাদের দেশেও আগে বছরের পরীক্ষা বছরে হতো। ব্যাচগুলোর পরিচিতি ছিল সন দিয়ে। এখন নতুন পরিচিতি সংখ্যা দিয়ে।

পিএসসির ওপর কাজের বোঝা অনেক। বিচিত্রধর্মী কাজ করতে হয় তাদের। তাই একাধিক পিএসসি করার দাবি থাকলেও বাস্তবায়ন কেন হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়। বর্তমান পিএসসির হাতে শুধু বিসিএসের সাধারণ ক্যাডারগুলোর (প্রশাসন, পররাষ্ট্র, পুলিশ, শুল্ক ও কর, হিসাব ও নিরীক্ষা ইত্যাদি) নিয়োগের বিষয়াদি রাখলে পরিস্থিতির বড় রকমের উন্নতি হওয়ার কথা। অন্য ক্যাডারগুলোর জন্য আরও দুটি পিএসসি গঠন করা যায়।

পিএসসি পরিচালনা করার মতো উপযুক্ত জনবল আমাদের আছে। ভারতের ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন কেন্দ্রীয় (পররাষ্ট্র, কর ইত্যাদি) আর সর্বভারতীয় (আইএএস, আইপিএস ইত্যাদি) চাকরিতে নিয়োগের দায়িত্বে আছে। রয়েছে অনেকগুলো রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশন। আর নীতি-পদ্ধতি ও কাজের শৃঙ্খলার জন্য ভারতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ১১ লাখ প্রতিযোগী থাকলেও নিয়োগপর্ব শেষ হয় এক বছরেই।

গোটা ব্যবস্থাটাকে একটু পুনঃ বিবেচনা করা সংগত হবে। এ বিবেচনায় থাকতে পারে একাধিক পিএসসি গঠন, প্রিলিমিনারি থেকে লিখিত এবং লিখিত থেকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য উপযুক্ততাসহ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশি প্রতিবেদনের সময়সীমা। ভারতে প্রিলিমিনারি থেকে লিখিত পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয় শূন্য পদের ১০ থেকে ১১ গুণ। আর মৌখিক পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের থেকে শূন্য পদের দ্বিগুণ। ৩৫তম বিসিএস সাধারণ ক্যাডারে শূন্য পদের সংখ্যা কমবেশি পাঁচ শ।

সেখানে লিখিত পরীক্ষার সুযোগ পেতেন হাজার ছয়েক। আর মৌখিকে এক হাজার। সময় কত কমে যেত! নিয়োগের অপেক্ষমাণেরা লালনের আরশি নগর খোঁজার মতোই খুঁজছেন তাঁদের কাছে সোনার হরিণতুল্য নিয়োগপত্রটি। ‘আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ’ গানটি শুনতে তাঁরাও হয়তো ভালোবাসেন। কিন্তু চাকরির জন্য আর কত দিন তাকিয়ে থাকবেন পথের দিকে?

ঢাকা, ১২ অক্টোবর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// আইএইচ

 

 

No comments:

Post a Comment

Copyright © ejobscircular24