Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!.

জেএসসি প্রস্তুতি - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় | ejobscircular24

Government - Non Government job circular and news of Bangladesh

জেএসসি প্রস্তুতি - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়

প্রশ্ন : উদ্দীপকটি ভালোভাবে পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
রাসেল পাঠ্য বই পড়ে জাতিসংঘের ছয়টি পরিষদ সম্পর্কে প্রথম জানতে পরে। জাতিসংঘের একটি পরিষদ বিশ্বের দেশগুলোর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে, বেকার সমস্যা সমাধানে, শিক্ষার প্রসার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্বশান্তি নিশ্চিতকরণে জাতিসংঘের অবদান সম্পর্কেও সে পাঠ্য বইয়ের মাধ্যমে অবগত হলো।
ক. কত সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়?
খ. ভেটোক্ষমতা বলতে কী বোঝো?
গ. উদ্দীপকে জাতিসংঘের যে পরিষদ বিশ্বের দেশগুলোর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে, বেকার সমস্যা সমাধানে, শিক্ষার প্রসার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে, তার কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. বিশ্বশান্তি নিশ্চিতকরণে জাতিসংঘের অবদান পাঠ্য বইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর :
ক. ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়?
খ. ‘ভেটো’ লাতিন শব্দ, যার অর্থ ‘আমি ইহা মানি না।’ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যেকেই ভেটো ক্ষমতার অধিকারী। এ ক্ষমতা প্রয়োগ করে যেকোনো সিদ্ধান্ত যেকোনো স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র বাতিল বা স্থগিত করে দিতে পারে। এ ক্ষমতার অধিকারী রাষ্ট্রগুলো হলো—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও গণচীন।
গ. উদ্দীপকে জাতিসংঘের যে পরিষদ বিশ্বের দেশগুলোর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে, বেকার সমস্যা সমাধানে, শিক্ষার প্রসার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে বলা হয়েছে তা হলো, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ। নিচে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হলো :
অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সংখ্যা ৫৪। বছরে কমপক্ষে দুইবার নিউ ইয়র্কে অথবা জেনেভায় এ অধিবেশন বসে। প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রের একটি করে ভোট আছে। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে যেকোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ পরিষদের কাজ হলো, সদস্য দেশগুলোর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, বেকার সমস্যা সমাধান, শিক্ষার প্রসার, মানবাধিকার কার্যকর করা প্রভৃতি। এ ছাড়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক বিষয়ে সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ প্রেরণ করাও এ পরিষদের অন্যতম দায়িত্ব।
পরিশেষে বলা যায়, এই সংস্থার সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যই হলো অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের দায়িত্ব।
ঘ. বিশ্বশান্তি নিশ্চিতকরণে জাতিসংঘের অবদান পাঠ্য বইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো :
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বিশ্বশান্তি রক্ষায় কাজ করে আসছে। যুদ্ধ-সংঘাত বিশ্বশান্তির প্রধান প্রতিবন্ধক। তাই বিশ্বের কোথাও যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাত বাধলে জাতিসংঘ তা বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়। কখনো কখনো যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীকেও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পাঠায়।
এ ছাড়া বিশ্ব থেকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতা দূর করা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, পরিবেশদূষণজনিত সমস্যা মোকাবিলা, জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধ, নারী ও শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমেও জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখছে। এর জন্য জাতিসংঘের রয়েছে কতগুলো বিশেষ সংস্থা। যেমন—‘ইউনেসকো’ কাজ করে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য। শিশুদের কল্যাণের জন্য ‘ইউনিসেফ’, খাদ্য ও কৃষির উন্নয়নের জন্য ‘ফাও’ আর স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কাজ করে ‘হু’। বাংলাদেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য জাতিসংঘের এসব সংস্থা সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে। যেমন : সেনা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
পরিশেষে বলা যায়, বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রশ্ন : উদ্দীপকটি ভালোভাবে পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
স্বল্পশিক্ষিত কবির কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকায় এসে স্ত্রীসহ একটি কারখানায় কাজ নেন। এ ধরনের কারখানাগুলোর অধিকাংশ শ্রমিকই নারী। বাংলাদেশে এই শিল্প খাতে প্রায় ৩০ লাখেরও অধিক শ্রমিক কাজ করে। কবির ও তাঁর স্ত্রী বর্তমানে সন্তানদের শিক্ষিত ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করছেন।
ক. প্রাকৃতিক সম্পদ কী?
খ. রেমিট্যান্স বলতে কী বোঝো?
গ. উদ্দীপকে বাংলাদেশের কোন শিল্প বিবৃত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উক্ত শিল্পটি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কতটুকু ভূমিকা রাখছে? মূল্যায়ন করো।

উত্তর :
ক. প্রকৃতির কাছ থেকে পাওয়া সব বস্তুই প্রাকৃতিক সম্পদ।
খ. প্রবাসে কর্মরত নাগরিকদের স্বদেশে প্রেরিত অর্থকে রেমিট্যান্স বলে। বিদেশে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও পেশাজীবীরা তাঁদের অর্জিত অর্থের একটি অংশ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিবারের কাছে পাঠান। এ অর্থ কেবল তাঁদের পরিবারের প্রয়োজনই মেটায় না কিংবা তাঁদের জীবনযাত্রার মানই বাড়াচ্ছে না, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ হয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ আসছে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স থেকে।
গ. উদ্দীপকে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। নিম্নে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়া হলো :
বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত শিল্প। দেশজ উত্পাদনে এ খাতের অবদান ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তারা বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গত শতকের আশির দশকে এ শিল্পের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। অতি অল্প সময়ে এ শিল্প দেশের বৃহত্তম রপ্তানিশিল্পে পরিণত হয়েছে। দেশে বর্তমানে তিন হাজারেরও বেশি পোশাকশিল্প ইউনিট রয়েছে। এতে ৩০ লাখের অধিক শ্রমিক কাজ করছে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক থেকে ৮০৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের কবির কর্মসংস্থানের জন্য যেখানে কাজ করেন, সেটি হলো পোশাকশিল্প। এ থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি তাঁর সন্তানদের শিক্ষিত ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করছেন।
ঘ. উদ্দীপকে কবিরের শিল্পটির ভূমিকা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অপরিসীম। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় অত্যন্ত দ্রুত শিল্পায়ন ঘটছে। নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ঘটিয়ে মানুষ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরি করছে; সেসব পণ্য নিয়ে তারা ব্যবসা-বণিজ্য করছে, জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। শিল্পের বিকাশে মানুষের উদ্যোগ, পুঁজি ও গবেষণা এবং অভিজ্ঞতাই প্রধান ভূমিকা পালন করে। এখন সব রাষ্ট্রই দ্রুত শিল্পায়ন ঘটানোর জন্য উদার নীতিমালা প্রণয়ন করছে, দেশি-বিদেশি শিল্পোদ্যোক্তাদের নিজ দেশে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। এর ফলে অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটছে। অর্থনৈতিক উন্নতিই দেশের জনগণের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সহায়তা করে। সে কারণে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন বা উন্নতি ঘটাতে হলে শিল্প বিকাশের কোনা বিকল্প নেই। তাই বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গত শতকের আশির দশকে এ শিল্পের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। অতি অল্প সময়ে এ শিল্প দেশের বৃহত্তম রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দেশে তিন হাজারেরও বেশি পোশাকশিল্প ইউনিট রয়েছে। এতে ৩০ লাখের অধিক শ্রমিক কাজ করছে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে, যা দেশ ও পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা এনে দিয়েছে। এ অবস্থায় কল-কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিচারে ভালো বেতনে চাকরি করার সুযোগ পাচ্ছে।
সংক্ষেপে তাই বলা যায়, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে পোশাকশিল্পের অবদান অপরিসীম।

সৃজনশীল প্রশ্ন

মো. সুজাউদ দৌলা, প্রভাষক রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ উত্তরা, ঢাকা

e-Schoolbd সবার জন্য শিক্ষা

No comments:

Post a Comment

Copyright © ejobscircular24