Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!.

দিনমজুর থেকে মেডিকেলে চান্স পাওয়ার গল্প সোহেলের | ejobscircular24

Government - Non Government job circular and news of Bangladesh

দিনমজুর থেকে মেডিকেলে চান্স পাওয়ার গল্প সোহেলের

দিনমজুর থেকে মেডিকেলে চান্স পাওয়ার গল্প সোহেলের

suhel

লাইভ প্রতিবেদক : প্রবল ইচ্ছা আর চেষ্টা থাকলে যে, মানুষের কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই এবার তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নেত্রকোনা দূর্গাপুরের ছেলে সোহেল। হতদরিদ্র ঘরে জন্মগ্রহন করেও সোহেল তাক লাগিয়ে দিয়েছে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। বাবার সঙ্গে দিনমজুরি করে পড়াশোনা চালিয়েছেন তিনি। তিলে তিলে গড়ে তোলা স্বপ্ন পূরন করেছেন তিনি। এবার স্বপ্ন জয়ের পালা। ডাক্তার হয়ে দিনমজুর বাবার মুখে হাসি ফুটানোর ইচ্ছা তার।

সোহেলের বাড়ি নেত্রকোনা দূর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে। বাবা নুরুল ইসলাম দিনমজুর। দিনশেষে যা রোজগার তা দিয়েই চলে সংসার আর ৩ ছেলে ১ মেয়ের পড়াশোনার খরচ। সোহালের মা সালেমা খাতুন গৃহিণী। সোহেলেই তার মা-বাবার বড় সন্তান। এবার এমবিবিএস ভর্তি পরিক্ষায় দূর্গাপুরের দরিদ্র এই মেধাবী ছেলে বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

সোহেল কোনাপাড়া রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণী পাশ করেন। ৬ষ্ট-৮ম পর্যন্ত পড়াশোনা করেন কোনাপাড়া আদর্শ নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। এরপর পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করেও সোহেল এসএসসিতে নবারন উচ্চ বিদ্যালয় নাগেরগাতী থেকে  জিপিএ-৫ পান।

পরে আরো কিছু দিন শ্রমিকের কাজ করে ও গ্রামের মহাজনদের কাছ থেকে সুদে টাকা ঋণ নিয়ে ভর্তি হন ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজে। সেখান থেকেও এ বছর এইচএসসিতে সে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। অবশেষে মেডিকেল ভর্তিযুদ্ধে বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেলে নিজের জায়গাটি করে নিয়েছেন হতদরিদ্র এই মেধাবী ছেলে।

সোহেল রানার ছোট কাল থেকেই পড়ালেখার প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ ছিল। পারিবারিক অভাব অনটনে কোনো অবস্থাতেই সে স্কুল থেকে বিতাড়িত হতে চায়নি। কারণ লেখাপড়া করে বড় মাপের কিছু হওয়ার স্বপ্ন তার। স্বপ্ন দেখছেন ডাক্তার হয়ে গরীব মা-বাবার মুখে হাসি ফুটাবেন,দেশের কল্যাণের নিজের মেধাকে কাজে লাগাবেন।

সোহেল রানা জানান, খেয়ে না খেয়ে পড়াশোনা করে আজকে আমার এই পর্যন্ত আসা। বাবা অন্যের জমিতে কাজ করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী বাবার পক্ষে সংসার ও আমার পড়ালেখার খরচ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিলনা। আর আমিই ছিলাম পরিবারের বড় সন্তান। তাই পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে বাধ্য হয়েই অন্যের বাড়িতে আমিও বাবার সাথে দিনমজুরের কাজ করেছি।

পরিবারের এমন পরিস্থিতিতেও আমি চিকিৎসক হব এই স্বপ্ন দেখতাম। পাশাপাশি আমার মা-বাবাও আমাকে নিয়ে এমন স্বপ্ন দেখতেন। একমাত্র বসতবিটাটা ছাড়া আমার পরিবারের আর কোন সম্বল নেই। আমি ডাক্তার হওয়ার সুযোগ পেয়েও টাকার অভাবে মেডিকেলে ভর্তি হতে পারব কিনা সেই দুশ্চিন্তা আমাকে তাড়া করছিল, তখন এক সরকারী কর্মকর্তা এগিয়ে আসায় ভর্তি হওয়ার সেই টাকা জোগাড় হয়েছে।

সোহেলের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, আমার মত গরিব বাবার সন্তান মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, এ জন্য গর্বে আমার বুকটা গর্বে ফুলে উঠে। আমি একজন দিনমজুর, এই অবস্থায় ছেলের পড়ালেখার খরচ কোথায় পাব তা ভেবে কিনারা পাচ্ছিনা। যদি সমাজের স্বচ্ছল , বিত্তবান, সুহৃদ বা কোন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসত, তাহলে আমি আমার ছেলেকে ডাক্তার বানানোর লালিত স্বপ্ন পূরণ করতে পারতাম। এ সময় তিনি ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

[কার্টেসি : নেত্রবার্তা]

ঢাকা, ২২ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

No comments:

Post a Comment

Copyright © ejobscircular24