Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!.

পাড়াগাঁয়ের সেই কৃষক ছেলেটির বিসিএস ক্যাডার হওয়ার গল্প | ejobscircular24

Government - Non Government job circular and news of Bangladesh

পাড়াগাঁয়ের সেই কৃষক ছেলেটির বিসিএস ক্যাডার হওয়ার গল্প

পাড়াগাঁয়ের সেই কৃষক ছেলেটির বিসিএস ক্যাডার হওয়ার গল্প

alamin

কৃষকের ছেলে তিনি। বাবার সঙ্গে একসময় কৃষি জমিতেও কাজ করেছেন। এভাবেই চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা। পড়াশোনার জন্য মায়ের গহনাও বিক্রি করতে হয়েছে। অতিকষ্টে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। অভাব তাকে দমাতে পারেনি। পাড়াগাঁয়ের সেই কৃষক ছেলেটিই আজ বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন। চলুন তার মুখ থেকেই শুনে নেয়া যাক বিসিএস ক্যাডার হয়ে ওঠার গল্প :

আল আমিন : কথায় আছে মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম পড়াশোনা করে জীবনে অনেক বড় হব। অনেক বড় চাকরি করব। নেত্রকোনা সদর উজেলার আমতলা ইউনিয়নের শিবপ্রসাদপুর গ্রামে আমার জন্ম।

নিন্ম মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে সন্তান হওয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার সাথে মাঠে কৃষি কাজ করতে হতো। তবে বাবা মা দুইজনেই চাইতেন আমি যেন পড়াশোনা করি।

গ্রামের বিদ্যালয়ে মা আমায় প্রথম শ্রেনিতে ভর্তি করে দেন এবং প্রথম থেকেই সবাইকে পিছনে ফেলে বার্ষিক পরীক্ষায় আমি ১ম স্থান অর্জন করি। বাবা মা দু’জনেই খুব খুশি হন আমার এমন সফলতা দেখে। শুরু হয় আমরা ক্লাসে ফার্স্ট হওয়ার প্রবল ইচ্ছা। কারণ আমি প্রতি শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়ে বাবা-মাকে সালাম করে খুব আনন্দ পেতাম। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতি বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্ট এর পর মা বাবাকে ভাল সফলতা দেখাতে সক্ষম হই।

আমাদের বিদ্যালয়ে যেখানে প্রতি বছর পরীক্ষায় সবার পাস করা নিয়ে শিক্ষকরা চিন্তায় থাকতেন, সেখানে আমাকে নিয়া তারা স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন যে আমি এস,এস,সি জিপিএ ৫.০০ পাব। উনাদের উৎসাহে আমি দিনরাত পড়াশোনা চালিয়া গেলাম । মনে পড়ে সে সময় আমি সারারাত পড়ি আর আমার মা আমায় অনুরোধ করে বলে বাবা একটু ঘুমাও আর কত পড়বে?

২০০৪ সালের এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট দিল এবং দেখা গেল যে আমি যে কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছে সেখানে একটি মাত্র জিপিএ ৫.০০ এসেছে আর সেটেই আমি।

এমন আনন্দের খবরে আমার মা আমাকে বুকে জড়িয়া নিলেন আর আমার প্রধান শিক্ষক আমাকে জড়িয়া ধরে কেঁদে উঠলেন। এমন সফলতা পাবার পর আমার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরোও বেড়ে গেল। এসএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্টের ফলে পুরো উপজেলায় আমি প্রশংসায় ভাসতে থাকলাম।

ভর্তি হলাম নেত্রকোনা সরকারি কলেজে। পত্রিকায় দেখতাম এসএসসি ও এইচএসসি তে ডাবল জিপিএ ৫.০০ পায় এমন ছাত্র ছাত্রীদের ছবি ছাপায়। আমিও তখন স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম।

আমিও এইচএসসিতে জিপিএ ৫.০০ পাব। তার জন্য আবার শুরু করি আমার বিরামহীন পড়াশোনা । আল্লাহ আমাকে নিরাশ করেননি আমার এইচএসসি রেজাল্টও জিপিএ ৫.০০ হল।

এবার আমি লক্ষ্য ঠিক করলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকল্যাণে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলাম। যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলাম আমার কৃষক বাবা আর গৃহীনি মায়ের বুকটা গর্বে ভরে গেলো।

আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পর বাবা-মা আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলেন আমার পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য। কিন্তু আমার আরো তিন টি ভাই-বোন স্কুল কলেজে পড়াশোনারত থাকা অবস্থায় হিমশিম খেতে হয়েছে সবার পড়াশোনা খরচ যোগাতে। দিনরাত তারা খেটে কুটে সামান্য যা আয় করতেন তা আমাদের পিছনেই ব্যয় করে দিতেন।

এক সময় মা তার সমস্ত গয়না বিক্রি করে দেন। শুনে আমার খুব কষ্ট লাগলো। এই অবস্থায় আমার জীবনে সহযোগীতার হাত বাড়ায় প্রাইম ব্যাংক। আমি প্রাইম ব্যাংক শিক্ষা বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হই। অনার্স সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত আমাকে প্রতিমাসে ১৫০০ টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ভালো রেজাল্টের জন্য বোর্ড বৃত্তির জন্যও নির্বাচিত হই। ফলে আমার নিজের পড়াশোনার খরচ যোগানের ব্যাপারে মোটামুটি চিন্তা মুক্ত হই।

অনার্স মাষ্টার্স পরীক্ষায় ফার্ষ্ট ক্লাস পেয়ে উর্ত্তীণ হই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাইদের বিবিএস ক্যাডার হওয়ার সফলতা দেখে আমি বিসিএস ক্যাডার হওয়ার নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। ৩৩ তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে ভাইভা পর্যন্ত যাই। ভাইভাতে পার হলেও পদ স্বল্পতার কারণে চূড়ান্ত ফলাফলে ক্যাডার সুপারিশ পাইনি। তারপর পিএসসি নন ক্যাডার পরীক্ষায় চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে আমি সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে সুনামগঞ্জ কর্মরত আছি।

চাকরিতে যোগদান করলেও আমার মনে মনে স্বপ্ন দেখা বিসিএস ক্যাডার হওয়ার ইচ্ছা প্রবল রাখি। ৩৪ তম বিসিএস পরীক্ষায় আবারো আমি ভাইভা পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হই কিন্তু পদ স্বল্পতার কারণে ক্যাডার পাইনি। আমি তবুও হাল ছাড়িনি। অবশেষে ৩৫ তম বিসিএস আমার স্বপ্ন পূরণ করে দেয়। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পেয়ে আমার কৃষক বাবা আর গৃহিনী মায়ের স্বপ্ন পূরনে সক্ষম হই।

আমার এ সফলতার পেছনে মা-বাবার অবদান সবচেয়ে বেশি, পাশাপাশি আমার বন্ধু মহলের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ তারা আমাকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করার জন্য ।

আমার স্ত্রী, শ্বশুর শ্বাশুরী আমার সাবেক কর্মস্থলের অফিস প্রধান উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব নূরুল আলম ভূঞা, সহকর্মীবৃন্দ, আত্মীয় স্বজন ও এলাকার সবার প্রতিও কৃতজ্ঞ।

আল আমিন
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার
৩৫তম বিসিএস
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

[কার্টেসি : নেত্রবাত্রা]

ঢাকা, ০৯ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

No comments:

Post a Comment

Copyright © ejobscircular24