Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!.

নিরক্ষর কাঠমিস্ত্রী’র সন্তান যেভাবে সহকারী জজ | ejobscircular24

Government - Non Government job circular and news of Bangladesh

নিরক্ষর কাঠমিস্ত্রী’র সন্তান যেভাবে সহকারী জজ

নিরক্ষর কাঠমিস্ত্রী’র সন্তান যেভাবে সহকারী জজ

saddam

‘বাবা তোমার পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনে আমার শেষ রক্ত বিন্দু এবং কিডনি বেচঁতেও রাজি আছি, তবুও তুমি হাল ছাড়বে না। ভালো করে পড়াশোনা করো। টাকার চিন্তা করো না, আমি আছি, প্রয়োজনে সব জমি বেঁচে দেব, তবুও তোমাকে পড়াশোনা করতে হবে।’

রফিক মজিদ: দরিদ্রতার কাছে মানুষ চিরকালই অসহায়। কেউ এই দারিদ্রকে জয় করতে পারে, আবার কেউ দরিদ্রতার ছোবলে বিপদগামি হয়ে পড়ে। কিন্তু এই দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে আজ সমাজের সু-উচ্চস্থানে অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শেরপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের সাদ্দাম হোসেন।

কঠোর অধ্যাবয়ায় আর প্রবোল ইচ্ছা শক্তির কারণে তার এই সাফল্যেও চুড়ায় উঠতে সহায়তা করেছে। তার বাবা ছিলেন অক্ষর-জ্ঞানহীন একজন কাঠমিস্ত্রী, আর তিনি হতে যাচ্ছেন সহকারী জজ। হ্যাঁ বাস্তব গল্পটাই শুনুন মন দিয়ে।

জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মালিঝিকান্দা দেবোত্তর গ্রামের হত দরিদ্র ও নিরক্ষর কা মিস্ত্রী সেকান্দর আলী’র স্বপ্ন ছিল তার ছেলে সাদ্দাম হোসেনকে ‘বড় সাহেব’ অর্থাৎ ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা বানাবে। সে লক্ষেই সেকান্দর আলীর আয়ের সিংহ ভাগ খরচ করে স্থানীয় কিন্টার গার্ডেন স্কুল মকবুল হোসেন মেমোরিয়াল একাডেমিতে ভর্তি করেন। সেখান থেকে সাদ্দাম হোসেন ২০০৭ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ায় সাদ্দামের বাবার আশার বাঁধ যেন আরো শক্তি হয়ে উঠে।

এবার স্বপ্ন দেখেন ছেলেকে ভালো কলেজে ভর্তি করবে। তার আশার প্রতিফলনে সাদ্দাম ভর্তি হয় জেলা শহরের শেরপুর সরকারী কলেজে। সেখানে তিনি ২০০৯ সালে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পায় এবং কঠোর পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে সাদ্দাম তার বাবার স্বপ্ন পুরণে আরো উদ্দোমি হয়ে উঠে। সাদ্দামের কঠোর পরিশ্রমের ফলে ওই বছরই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তির সুজোগ পায়। তাতেই যেন বাবা সেকান্দর আলীর স্বপ্ন হাতের নাগালে চলে আসে।

সাদ্দামের বাবার উচ্চ শিক্ষার খরচের ভার এতোদিন খুব একটা না বুঝলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি’র পর কিছুটা বুঝতে পারলো। হাল ছাড়েনি সেকান্দর আলী। শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করেছেন সাত-সাগরের মাঝির ন্যায়। নির্ভিক আত্ম প্রত্যয়ী বাবা সাহস হারাননি।

ছেলেকে তিনি বুঝাতেন আর বলতেন, ‘বাবা তোমার পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনে আমার শেষ রক্ত বিন্দু এবং কিডনি বেচঁতেও রাজি আছি, তবুও তুমি হাল ছাড়বে না। ভালো করে পড়াশোনা করো। টাকার চিন্তা করো না, আমি আছি, প্রয়োজনে সব জমি বেঁচে দেব, তবুও তোমাকে পড়াশোনা করতে হবে।’

বাবার এমন প্রতিজ্ঞার কথা চিন্তা করে সাদ্দামের উদ্দোম আরো বেড়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থকে সাদ্দাম যেমন সংকল্প করেন তাকে এ পথ যেভাবেই হোক যতো কষ্টই হোক পাড়ি দিতে হবে।

সাদ্দামের বাবার স্বপ্ন যখন প্রসারিত হতে থাকে ঠিক তখনই সাদ্দামের পড়াশোনার খরচের তালিকাও বড় হতে থাকে। ফলে সাদ্দামের বাবা’র একমাত্র সম্বল প্রায় ৫০ শতক জমি’র দিকে হাত বাড়ায়। ছেলেকে যে করেই হোক উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে নিজের অক্ষর জ্ঞানের শূন্যতা পূরনের পাশাপাশি বড় সাহেব বানাতেই হবে। তাই জমি বিক্রি শুরু করে ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগার করতেন।

এক পর্যায় প্রথম শ্রেণিতে অনার্স শেষ করে মাস্টার্স এ ভর্তি হয় সাদ্দাম। এদিকে সাদ্দামের বাবা’র এক খন্ড ভিটে-বাড়িটি ছাড়া সব জমি বিক্রি করা শেষ হয়ে যায়।

সাদ্দামের অনার্স পরীক্ষা চলাকালে ২০১৩ সালে রোগে-ভুগে সাদ্দামের বাবা সেকান্দর আলী মারা যায়। মার্স্টাস এ পড়াশোনার সময় সাদ্দাম আবারো একটু অর্থ সংকটে পড়লেও সাদ্দাম তা কাটিয়ে উঠে নানা জনের সহযোগীতা নিয়ে।

একদিকে বাবা স্বপ্ন পুরণ অন্যদিকে অভাবের হাতছানি দুইয়ের সাথে লড়াই করে সাদ্দামের গায়ে যেন এক পশলা বৃষ্টি নেমে কিছুটা স্বতেজ হয়ে উঠে তার সামনে সহকারী জজ এর চাকুরি’র সুযোগ আসায়।

বাবা’র মৃত্যুর কিছুদিন পর সাদ্দামের সামনে সহকারী জজ পদে চাকুরির সুযোগ এলে এতে সে অংশ গ্রহণ করে লিখিত ও ভাইবা পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয় বেশ ভালো ভাবেই। বর্তমানে সে সহকারী জজ (সুপারিশ কৃত) হিসেবে পেষ্টিং এর অপেক্ষায় আছে। এদিকে অনার্স ও মার্স্টাস এ প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ এবং সবশেষে জজে’র চাকরি পেলেও বাবা সেকান্দর আলী ছেলে সাদ্দামকে জজ হিসেবে দেখে যেতে পারলো না।

সাদ্দামের বড় আফসোস আমার চাকরির টাকা খেয়ে না যেতে পারলেও বাবা আমার পরীক্ষার ভালো ফলাফল এবং আমি জজ হয়েছি এ সংবাদ জানার পরও যদি বাবা মারা যেতো তবে কিছুটা শান্তনা বুকে নিয়ে যেতে পারতাম বলে জানান সাদ্দাম।

তিনি জানান, আমার বাবা’র অক্ষর জ্ঞান না থাকলেও একমাত্র তার অনুপ্রেরণায় আমি ভালো ছাত্র হতে পেরেছি। আমি মনে করি অভাব কোন বিষয় না, মনে ইচ্ছা শক্তি থাকলে অভাব নিয়েও ভালো ফলাফল করা যায় এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়। তবে আমার বাবা মতো দেশের সকল অভাবী বাবা’র যদি সন্তানদের লেখা-পড়া’র প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকে তবে কোন গরিব ঘরের সন্তানই পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে থাকবে না।

মোদ্দাকথা, ‘কথা ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়’।

ঢাকা // ৯ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এফআর

No comments:

Post a Comment

Copyright © ejobscircular24