Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!.

শিক্ষা ক্যাডারদের আইনের ঊর্ধ্বে রেখে খসড়া চূড়ান্ত | ejobscircular24

Government - Non Government job circular and news of Bangladesh

শিক্ষা ক্যাডারদের আইনের ঊর্ধ্বে রেখে খসড়া চূড়ান্ত

নোট-গাইড বই নিষিদ্ধের কড়া বিধান সংযোজন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে দশ বছরের সাজার প্রস্তাব বাদ এবং সরকারি কলেজ শিক্ষকদের শাস্তির ঊর্ধ্বে রেখে ‘শিক্ষা আইন, ২০১৬’ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির একটি প্রভাবশালী মহলের চাপে খসড়া আইনের বিভিন্ন ধারা থেকে শাস্তির বিধান প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অডিট ও আইন) আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘সকল ক্যাডারেই নিজস্ব আইনে বিভিন্ন অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে।

এজন্য শিক্ষা আইনে তাদের জন্য শাস্তির বিধান রাখার প্রয়োজন নেই।’এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব ও জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর শেখ ইকরামুল কবির বলেন, ‘আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।

শিক্ষা ক্যাডারকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখার কোন যুক্তি নেই। কারণ অপরাধ তো সবাই করে না, গুটি কয়েকজন অপরাধে জড়ায়। এমপিও শিক্ষকরা অপরাধে সাজা পাবেন, অন্য শিক্ষকরা আইনের বাইরে থাকবেন, তা হয় না।

‘খসড়ায় সরকারি শিক্ষকদের জন্য শাস্তির বিধান না থাকলেও আইনে বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য কঠোর নিয়ম-কানুন ও শাস্তির বিধি-বিধান জুড়ে দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘কোন শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত, কর্তন ও বাতিল করা যাবে। তবে স্থগিতকৃত বেতন-ভাতার সরকারি অংশের (এমপিও) কোন বকেয়া প্রদান করা যাইবে না।

সরকারের অনুমোদনক্রমে স্থগিতকৃত বেতন-ভাতার সরকারি অংশ পুনরায় চালু করা যাবে। এই ক্ষেত্রে বকেয়া প্রদান করা যাইবে না।’শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন, ‘সংশ্লিষ্ট সকল মহলের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আশা করছি জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই আইনটি অনুমোদন করা যাবে।’প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাজা বাতিলসাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসএসসি, এইচএসসি, জেএসসি ও পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে।

এজন্য বিভিন্ন সময়ে বিশিষ্ট নাগরিকরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপরাধে সাজার জন্য কঠোর বিধান সংযোজনের দাবি করে আসছিল। তাদের দাবি অনুযায়ী ‘শিক্ষা আইন-২০১৪’ এর খসড়ায় বলা হয়েছিল, ‘কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কোন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করিলে অথবা উক্ত কার্যে জড়িত থাকিলে বা সহায়তা করিলে তিনি সর্বোচ্চ দশ বৎসরের সশ্রম কারাদ- অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় প্রকার দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

‘কিন্তু এ সংক্রান্ত পুরনো আইন রয়েছে_ এমন অজুহাতে চূড়ান্ত খসড়া আইন থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাজার বিষয়টি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।এ ব্যাপারে অতিরিক্ত সচিব (অডিট ও আইন) আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য জড়িত ব্যক্তিদের সাজা দেয়ার জন্য পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্ট রয়েছে।

এজন্য মূল শিক্ষা আইনে আলাদা কোন বিধান রাখার প্রয়োজন নেই। তবে আইনে বলা থাকবে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য ওই পুরনো আইনে অপরাধীর বিচার করা যাবে।

”নিরক্ষরতা দূরীকরণ, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা এবং একই পদ্ধতির সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে’ প্রণীত আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক উপজেলায় একটি নতুন সরকারি মাধ্যমিক স্কুল, একটি টেকনিক্যাল স্কুল ও একটি সরকারি কলেজ স্থাপন অথবা বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে মানসম্মত প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

‘যদিও প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের এই ধারা অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে হাইস্কুল ও কলেজ জাতীয়করণের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার।

আর মেডিকেল কলেজের ন্যায় সরকারি-বেসরকারি সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে জন্য অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া আইনে।খসড়া আইনে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (এমপিওভুক্ত) শিক্ষকদের বদলি ও পদোন্নতির বিষয়ে পৃথকভাবে নীতিমালা প্রণয়নে’র কথাও বলা হয়েছে।

কিন্তু এমপিওভুক্ত কর্মচারীদের বদলি ও পদোন্নতির বিষয়ে কোনকিছু বলা হয়নি।তবে অনিয়ম, দুর্নীতিতে জড়িত, ভুয়া সনদে চাকরি এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনের সরকারি অংশ (এমপিও) এবং প্রতিষ্ঠানের এমপিও সাময়িক বন্ধ, আংশিক বা সম্পূর্ণ কর্তন কিংবা বাতিলেরও বিধান রাখা হয়েছে খসড়া শিক্ষা আইনে।

সহায়ক পুস্তকের নামে নোট ও গাইডবিশিষ্ট নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে নোট ও গাইড বই প্রকাশের বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের দাবি_ নোট ও গাইড বই পড়ে ছাত্রছাত্রীদের মেধার বিকাশ ঘটছে না, বরঞ্চ তাদের সৃজনশীলতা ও মননশীলতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তাদের দাবি অনুযায়ী খসড়া শিক্ষা আইনে সহায়ক বইয়ের নামে নোট ও গাইড বই প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত করা হয়েছে। খসড়া আইনের ৫১ নম্বর ধারার (১) উপধারায় বলা হয়েছে, ‘গাইড বই, নোট বই তৈরি এবং এর সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।

‘তবে এক্ষেত্রে ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক পা-ুলিপির অনুমোদন গ্রহণ করাইয়া কোন প্রকাশক অতিরিক্ত হিসাবে সহায়ক শিক্ষা উপকরণ বা পুস্তক প্রকাশ করিতে পারিবে।’

এ ব্যাপারে পান্ডুলিপি অনুমোদনে শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেবে এনসিটিবি।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত সচিব আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন মহলের দাবির প্রেক্ষিতেই পূর্বের খসড়া থেকে কিছু কিছু বিষয় বাদ দেয়া হয়েছে, আবার কিছু কিছু বিষয় সংযোজন করা হয়েছে।

বিশিষ্ট নাগরিকরা নোট-গাইড বইয়ের ব্যাপারে যেসব প্রস্তাব করেছেন, সেগুলোকে মূল্যায়ন সাপেক্ষে খসড়া আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’তবে এ ব্যাপারে প্রফেসর শেখ ইকরামুল কবির বলেন, ‘মুখস্থবিদ্যাকে নিরুৎসাহিত করার লক্ষে সকল পরীক্ষা সৃজনশীল পদ্ধতিতে নেয়ার কথা বলা হয়েছে খসড়া আইনে।

কিন্তু নোট-গাইড বা সহায়ক বই প্রকাশের সুযোগ থাকলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হবে। এজন্য নোট-গাইড বইয়ের লাগাম টানতেই হবে।

‘এমপিও স্থগিত, কর্তন ও বাতিলখসড়া আইনে একটি ধারায় বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট কারণে কোন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, মাদ্রাসার সুপার বা প্রধান শিক্ষক অথবা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ এবং প্রতিষ্ঠানের এমপিও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাময়িক বন্ধ, আংশিক বা সম্পূর্ণ কর্তন কিংবা বাতিল করা যাবে।

এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশনা মোতবেক প্রতিষ্ঠানের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও আয়-ব্যয় নিরীক্ষা না করা; ভুয়া তথ্য প্রদান, ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ, ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তি/শাখা প্রদর্শন, পাবলিক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন এবং বোর্ডের আপিল ও আরবিট্রেশন সিদ্ধান্ত প্রতিপালন না করলে; জাল সনদে এমপিওভুক্ত, মহিলা কোটা অনুসরণ ব্যতীত শিক্ষক নিয়োগ এবং প্যাটার্নবহির্ভূত পদে এমপিওভুক্তি, এনসিটিবি অথবা যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নয়_ এমন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই অনুসরণ করলে, আদালত কর্তৃক কোন ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে, অসদাচরণ বা দায়িত্বে অবহেলার বিষয় প্রমাণিত হলে, প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং বাণিজ্যে জড়িত প্রমাণিত হলে, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থী কোন কার্যক্রম প্রমাণিত হলে অথবা নারী নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি ভোগ করতে হবে।

আইন চূড়ান্তকরণে ধীরগতিমন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদনের পর ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে খসড়া আইনটির ওপর সর্বস্তরের মানুষের মতামত নেয়া হয়।

পরবর্তীতে চলতি বছরের প্রথম দিকে ফের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে খসড়ার ওপর সর্বস্তরের মানুষের মতামত নেয়া হয়। দু’একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত খসড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া হতে পারে।জানা গেছে, ‘খসড়া শিক্ষা আইন-২০১৪’র খসড়া চূড়ান্ত করার আগেও এর ওপর সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৩৪টি, বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৯৪টি ও বিশিষ্ট নাগরিকসহ ব্যক্তি পর্যায়ে ১০৬টিসহ মোট ২৩৪টি মতামত নেয়া হয়।

এর মধ্যে ২৫টি ছিল পূর্ণাঙ্গ মতামত। এ মতামতের ভিত্তিতেই জাতীয় সংসদে এ আইনটি উপস্থাপন করার কথা ছিল। কিন্তু গত প্রায় তিন বছরে খসড়াটি মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘এবার কোন সমস্যা নেই। খসড়াটি প্রায় চূড়ান্ত হয়েই গেছে। এখন শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে।’নারী শিক্ষায় গুরুত্বারোপখসড়া আইনের নারী শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

খসড়ার ৪৭ ধারায় বলা হয়েছে, বাজেটে নারী শিক্ষা খাতে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হবে। শিক্ষার সকল স্তরে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধির জন্য বিশেষ তহবিল গঠন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যসূচিতে অধিকসংখ্যক মহীয়সী নারীর জীবনী এবং নারী মুক্তি বা শিক্ষায় অবদান রেখেছেন এমন পুরুষদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত ভৌত অবকাঠামো ও সামাজিক পারিপাশ্বকিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা, মাধ্যমিক স্তরের শুরুতে নবম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে জেন্ডার স্টাডিজ এবং প্রজনন স্বাস্থ্য অন্তর্ভুক্ত করা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও গবেষণা কাজের জন্য দরিদ্র ও মেধাবী ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তাভুক্ত ছাত্রীদের বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা সুদমুক্ত, স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা এবং শিক্ষার সকল স্তরের নারী-পুরুষ বিভেদে সমতা ও সাম্যতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।


No comments:

Post a Comment

Copyright © ejobscircular24